ভেনিজুয়েলায় মার্কিন ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ছে

ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল খাতে ব্যাপক মার্কিন অংশগ্রহণ দেশটির ব্যাংকগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল খাতে ব্যাপক মার্কিন অংশগ্রহণ দেশটির ব্যাংকগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। এতে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে জেপি মরগান চেজ। দেশটিতে কার্যক্রম পরিচালনার দীর্ঘ ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নের অভিজ্ঞতা আর্থিক প্রতিষ্ঠানটিকে ভেনিজুয়েলায় বাড়তি সুবিধা দেবে বলে অভিমত বিশ্লেষকদের। খবর রয়টার্স।

একসময় জিপি মরগান ও সিটিগ্রুপসহ কয়েকটি মার্কিন ব্যাংক ভেনিজুয়েলায় ব্যবসা পরিচালনা করেছে। তবে গত কয়েক দশকে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো সেখানে কার্যক্রম কমিয়েছে বা পুরোপুরি বেরিয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনিজুয়েলায় বাণিজ্য অর্থায়ন বা জ্বালানি তেল অবকাঠামোয় মার্কিন ব্যাংকগুলোর অর্থায়নের সুযোগ বাড়ছে। তবে বিশ্লেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, এখনো ভেনিজুয়েলায় ব্যবসা পরিচালনায় বিদেশী ব্যাংকগুলোকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

মার্কিন ব্যাংকগুলোর মধ্যে ভেনিজুয়েলায় জেপি মরগানের উপস্থিতি ৬০ বছরের। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ব্যাংকিং ও শেয়ার ট্রেডিং কার্যক্রম সীমিত করে। তবে ব্যাংকটি কারাকাসে নিষ্ক্রিয় থাকা একটি অফিস প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় চালু করতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০০৬ সাল থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে ভেনিজুয়েলা, যা ২০১৭ সালে আরো কঠোর হয়। নিষেধাজ্ঞার কারণ লাতিন আমেরিকার দেশটির সরকার বা রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর সঙ্গে কোনো লেনদেন করতে পারেনি মার্কিন ব্যাংকগুলো। এখন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নেয়ার পর ভেনিজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। এরই মধ্যে দেশটির জ্বালানি তেল খাত পুনর্গঠনের কথাও বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউজে এক সভায় গত শুক্রবার জ্বালানি তেল জায়ান্ট কনোকোফিলিপসের সিইও রায়ান ল্যান্স জানান, ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল খাতে বিনিয়োগে অংশ নিতে পারে মার্কিন ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকও রয়েছে।

ওয়েলস ফারগোর ব্যাংকিং বিশ্লেষক মাইক মায়ো বলেছেন, ‘জেপি মরগান বিশ্বমানের ব্যাংক। তাই ভেনিজুয়েলায় বা বিশ্বব্যাপী যেকোনো সুযোগে তাদের অংশ নেয়া উচিত।’

মোট আয়ের হিস্যায় অবদান কম হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলো অনেক বছর ধরে লাতিন আমেরিকায় ব্যবসা করছে। ২০২৪ সালে জেপি মরগানের মোট বৈশ্বিক আয়ে মাত্র ২ দশমিক ১৯ শতাংশ অবদান রেখেছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চল।

আরও